Ad Code

আইপিএল না ‘ধুরন্ধর ২’? মুক্তি নিয়ে দ্বিধায় জিও হটস্টার

https://ift.tt/J49GRny বলিউডে বহুদিন পর এমন এক সিনেমা দেখা গেল, যার সাফল্য শুধু বক্স অফিসে সীমাবদ্ধ নয়—পুরো ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসায়িক কৌশলকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সেই আলোচিত নাম। পরিচালক আদিত্য ধরের এই স্পাই–অ্যাকশন সিকুয়েলটি মুক্তির তিন সপ্তাহ পেরিয়েও প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখাচ্ছে, আর সেই সাফল্যের ছায়া পড়েছে এর ওটিটি মুক্তির পরিকল্পনাতেও। বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর’–ঝড় সংখ্যাটা চোখ কপালে তোলার মতো। মাত্র ২১ দিনেই ভারতে ১ হাজার ৪১ কোটি ২৭ লাখ রুপি নেট আয়—যা বলিউডে বিরল। বিশ্বজুড়ে আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ কোটি ৬৭ লাখ রুপি। দেশে গ্রস আয় ১ হাজার ২৪৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, বিদেশ থেকেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অঙ্ক। এমন পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই ছবিটিকে তুলেছে সর্বকালের সেরা আয়কারী ছবিগুলোর তালিকায়। এখন আলোচনায় একটাই প্রশ্ন—দক্ষিণি সুপারস্টার আল্লু অর্জুন–এর ‘পুষ্পা ২’–এর রেকর্ড কি ভাঙতে পারবে ‘ধুরন্ধর ২’? ‘পুষ্পা ২’ ৬৪ দিনে যে অঙ্কে পৌঁছেছিল, ‘ধুরন্ধর ২’ সেখানে পৌঁছে গেছে অনেক কম সময়ে। ফলে ট্রেড বিশ্লেষকদের ধারণা, রেকর্ড ভাঙা এখন সময়ের ব্যাপার। এরপর আরও বড় লক্ষ্য—আমির খান–এর ‘দঙ্গল’। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি বিশ্বজুড়ে ২ হাজার কোটির বেশি আয় করে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘ধুরন্ধর ২’ সেই মাইলফলক ছুঁতে পারবে কি না, সেটাই এখন বড় কৌতূহল। কেন থামছে না এই সাফল্য? বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সাফল্যের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, রণবীর সিংয়ের তারকাখ্যাতি এবং চরিত্রে তাঁর রূপান্তর। দ্বিতীয়ত, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আগের সাফল্য থেকে তৈরি প্রত্যাশা। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন ও নির্মাণ। তবে সবচেয়ে বড় বিষয়—মুখে মুখে প্রচার। মুক্তির পর দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছবিটির আয়কে প্রতিদিনই বাড়িয়ে দিচ্ছে। মাল্টিপ্লেক্সের পাশাপাশি সিঙ্গেল স্ক্রিনেও এর ধারাবাহিক ব্যবসা প্রমাণ করে, ছবিটি সব শ্রেণির দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ওটিটিতে কবে? প্রশ্নটা এখন সবার—কবে দেখা যাবে ওটিটিতে? ছবিটির স্ট্রিমিং স্বত্ব রয়েছে জিও হটস্টার–এর কাছে। যদিও প্রথম কিস্তি মুক্তি পেয়েছিল নেটফ্লিক্স–এ, এবার প্ল্যাটফর্ম বদলেছে। তবে দ্রুত ডিজিটাল মুক্তির সম্ভাবনা আপাতত কম। কারণ, নির্মাতারা স্পষ্টভাবে থিয়েট্রিক্যাল উইন্ডোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সাধারণত বড় ছবির ক্ষেত্রে ৬–৮ সপ্তাহ পর ওটিটি মুক্তির একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ‘ধুরন্ধর ২’–এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। প্রথমত, ছবিটি এখনো হলে বিপুল আয় করছে। এই সময়ে ওটিটিতে মুক্তি দিলে সেই আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটির চাহিদা রয়েছে। ফলে গ্লোবাল কালেকশন আরও বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না নির্মাতারা। সব মিলিয়ে, ওটিটি মুক্তির সিদ্ধান্তটি এখানে পুরোপুরি ব্যবসায়িক হিসাব–নিকাশের ওপর নির্ভর করছে। আইপিএল—বড় ফ্যাক্টর ওটিটি মুক্তির সময় নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬। বর্তমানে জিও হটস্টার–এর প্রধান আকর্ষণ এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আইপিএল চলাকালে বড় কোনো সিনেমা মুক্তি দিলে দর্শকের মনোযোগ ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই সময়টাকে এড়িয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক কৌশল। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের ধারণা, সবকিছু ঠিক থাকলে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘ধুরন্ধর ২’–এর ওটিটি প্রিমিয়ার হতে পারে। তবে সেটিও নিশ্চিত নয়। কারণ, তখনো যদি ছবিটির বক্স অফিস পারফরম্যান্স শক্তিশালী থাকে, মুক্তি আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

from Amarbangla entertainment Feed https://ift.tt/L6g3MOv

Post a Comment

0 Comments